কলকাতার কাশিপুর জ্যোতিনগর কলোনিতে শত শত পরিবার পানি-বিদ্যুৎ সংকটে, চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে

Share

পরিবার পানি-বিদ্যুৎ সংকটে, চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে


কলকাতার উত্তরের কাশিপুর এলাকার জ্যোতিনগর কলোনিতে বসবাসকারী শত শত পরিবার বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জ্যোতিনগর কলোনির বর্তমান পরিস্থিতি

জ্যোতিনগর কলোনি কাশিপুরের গঙ্গার পাড় ঘেঁষে অবস্থিত একটি পুরনো বসতি। এখানে মূলত দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বাস করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নার কাজ থেকে শুরু করে পানীয় জলের সংকট পর্যন্ত সবকিছুই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অনেকেই বলছেন, চুলায় আগুন জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি নেই। খাবারের ব্যবস্থা করতে না পেরে অনেক পরিবার অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। পানীয় জলের অভাবে বাসিন্দারা গঙ্গার দূষিত পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বাসিন্দাদের দুর্ভোগের চিত্র

এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা দূরের গ্রাম বা পাশের এলাকা থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করছেন। তবে সেই পানিও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। ছোট শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকারে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাই। এখন পানি-বিদ্যুৎ না থাকায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।” আরেকজন জানান, অনেকেই ক্যাভারের পানি কিনে কোনোমতে চালাচ্ছেন। তবে সবার পক্ষে সেটা সম্ভব নয়।

বাসিন্দাদের অভিযোগ

এলাকার বাসিন্দারা দাবি করছেন, এই সংকট ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় নাগরিক সুবিধা কমে গেছে। তারা বলছেন, মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগের কোনো সরকারি প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা পুরসভার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি।

দ্রুত সমাধানের দাবি

জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা দ্রুত পানীয় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি আর বেশিদিন চলতে পারে না। মৌলিক নাগরিক সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এলাকার মানুষ আশা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।

Post a Comment

أحدث أقدم